News update
  • ADB lowers Bangladesh’s growth forecast to 4 % in FY2027     |     
  • El Niño Tests Global Readiness for a Changing Climate     |     
  • Dhaka's air quality recorded moderate on Wednesday morning      |     
  • Dhaka, Riyadh ties continue to develop across numerous fields: Envoy     |     
  • Tarique, Erdogan discuss expanding Bangladesh-Türkiye trade ties     |     

শেনচৌ-১৫ মনুষ্যবাহী মহাকাশযানের সফল উত্ক্ষেপণ ও চীনের মহাকাশকেন্দ্র প্রসঙ্গ

ওয়াং হাইমান ঊর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 2022-12-02, 12:27pm




শেনচৌ-১৫ মনুষ্যবাহী মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপণের সাথে, চীনের মনুষ্যবাহী মহাকাশযান শিল্প আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। মঙ্গলবার শেনচৌ-১৫ মনুষ্যবাহী মহাকাশযানটি লংমার্চ-২ পরিবাহক রকেটের সাহায্যে ‘চিউ ছুয়ান’ উপগ্রহ উত্ক্ষেপণকেন্দ্র থেকে উত্ক্ষেপিত হয়। উত্ক্ষেপণের প্রায় ১০ মিনিট পর, শেনচৌ-১৫ মনুষ্যবাহী মহাকাশযানটি সফলভাবে রকেট থেকে পৃথক হয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করে। 

মঙ্গলবার রাত ১১টা ৮ মিনিটে শেনচৌ-১৫ মনুষ্যবাহী মহাকাশযানের তিন নভোচারী ফেই চুন লুং, তেং ছিংমিং, ও চাং লু-কে নিয়ে,  লংমার্চ-২ পরিবাহক রকেট মহাশূন্যের দিকে যাত্রা শুরু করে। শেনচৌ-১৫-এর সফল উৎক্ষেপণের পর, লঞ্চ টাওয়ারের নিকটতম পরীক্ষা ও লঞ্চ হলে, রকেট সিস্টেম, মহাকাশচারী সিস্টেম, মহাকাশযান সিস্টেমের কর্মীরা একটি গ্রুপ ছবি তোলেন। মহাকাশ বৈজ্ঞানিক গোষ্ঠীর প্রথম সংস্থা এবং লংমার্চ-২ পরিবাহক রকেটের প্রধান ডিজাইনার রুং ই, একটি গ্রুপ ছবি তোলার পরপরই সাংবাদিকদের সাথে তার অনুভূতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এবার সবাই একটু বেশি উত্তেজিত।  কারণ, এটি চূড়ান্ত উৎক্ষেপণ মিশন; এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া, এবারই প্রথম আমাদের রকেট নিম্ন তাপমাত্রার সম্মুখীন হয়।’

মহাকাশ স্টেশনের নির্মাণ-পর্বের চূড়ান্ত কাজ হিসাবে, শেনচৌ-১৫ নভোচারীরা ধারাবাহিক তত্পরতা চালাবেন। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে তিনটি কেবিনের অবস্থা যাচাই করা, মহাকাশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো, এবং ৩ থেকে ৪ বার  মহাশূন্যে পদচারণা করা। এবারের মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শেনচৌ-১৫ মিশনের তিন নভোচারীর সঙ্গে  মহাকাশকেন্দ্রে অবস্থানরত শেনচৌ-১৪ নভোচারীদের সাক্ষাত। শেনচৌ-১৪-র তিন নভোচারী বিগত প্রায় ৬ মাস ধরে মহাকাশকেন্দ্রে অবস্থান করছেন। মহাকাশ বৈজ্ঞানিক গোষ্ঠীর পাঁচ সংস্থা এবং শেনচৌ মানুষ্যবাহী মহাকাশযান ব্যবস্থার বিদ্যুত্ বিভাগের প্রধান ডিজাইনার নান হুং থাও সাংবাদিকদের বলেন, এই ঐতিহাসিক ‘পুনর্মিলন’ মহাকাশ স্টেশনের একাধিক প্রযুক্তি যাচাই করবে। তিনি বলেন, এখন একই সময়ে দুটি মনুষ্যবাহী মহাকাশযান মহাকাশকেন্দ্রের মূল অংশের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এমনটা আগে হয়নি। এখন মহাকাশকেন্দ্রকে দুটি মনুষ্যবাহী মহাকাশযানের জন্য বিদ্যুত সরবরাহ করতে হবে; তাপ সহায়তা প্রদান করতে হবে। কয়েক দিনের জন্য হলেও, ছয় জন নভোচারীর আবাসস্থল হবে মহাকাশকেন্দ্র।

চীনের মহাকাশকেন্দ্রে এখন আছে থিয়ানহ্য মূল কেবিন, ওয়েনথিয়ান পরীক্ষামূলক কেবিন, মেংথিয়ান পরীক্ষামূলক কেবিন, থিয়ানচৌ-৫ মালবাহী যান, শেনচৌ-১৪ ও শেনচৌ-১৫ মনুষ্যবাহী যান। সবমিলিয়ে ওজন প্রায় শতাধিক টন। 

মহাকাশকেন্দ্রে একইসঙ্গে ৬ জন নভোচারীর সমাবেশ প্রসঙ্গে  চীনের মহাকাশ প্রকল্পের নভোচারী ব্যবস্থার প্রধান ডিজাইনার হুয়াং ওয়েই ফেন বলেন, ছয় জন নভোচারী প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা চালাবেন এবং প্রথম গ্রুপ দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে শেনচৌ-১৪ নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। শেনচৌ-১৫ নভোচারীরা মহাকাশকেন্দ্রে আগামী ৬ মাস অবস্থান করে গবেষণা চালাবেন। 

(ওয়াং হাইমান ঊর্মি, সাংবাদিক, বাংলা বিভাগ, চায়না মিডিয়া গ্রুপ, বেইজিং, চীন।)