
এখনো শুরু হয়নি মধুমাস। তবুও গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় রসালো ফল লিচু এর মধ্যেই রাজধানীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসা এসব লিচুর বেশিরভাগই এখনো অপরিপক্ক। তবে স্বাদে ঘাটতি থাকলেও দামে কোনো ছাড় দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। প্রতি শত লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
রাজধানীর সূত্রাপুর, ওয়ারী ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লিচুর উপস্থিতি ক্রেতাদের নজর কাড়লেও স্বাদ ও দামের সমন্বয় না থাকায় অনেকেই কিনতে দ্বিধায় পড়ছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, এসব লিচু মূলত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এবং রাজশাহীর কয়েকটি এলাকা থেকে আসছে। মৌসুমের একেবারে শুরুর দিক হওয়ায় লিচুগুলো এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। তাই স্বাদে মিষ্টির চেয়ে হালকা টকভাবই বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
লিচু কিনতে আসা ক্রেতা মো. রাকিব হোসেন বলেন, লিচু দেখে ভালো লাগছে, কিন্তু খেয়ে তেমন স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দামও অনেক বেশি। এখন কিনে আসলে খুব একটা লাভ নেই।
আরেক ক্রেতা সাবিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৌসুমের শুরু বলে দাম বেশি, এটা বুঝি। কিন্তু স্বাদও যদি না থাকে, তাহলে এত টাকা দিয়ে কেনার মানে হয় না।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, উচ্চ দামের পেছনে রয়েছে সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদনে বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব।
সূত্রাপুরে ভ্যানে করে লিচু বিক্রি করা মো. সেলিম জানান, এখন যে লিচু আসতেছে, সেগুলো খুব সীমিত পরিমাণে আসছে। বছরের শুরুর দিকে বৃষ্টি ছিল না, গরম বেশি-এতে ফল ঠিকমতো বড় হয় নাই। অনেক লিচু গাছেই ফেটে গেছে। তাই ভালো লিচু কম, দাম বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরই মৌসুমের শুরুতে লিচুর দাম কিছুটা বেশি থাকে। তবে এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই উচ্চ দাম কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাব এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে লিচুর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে, যা সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সামনে যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং সরবরাহ বাড়তে শুরু করে, তাহলে বাজারে লিচুর দাম ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপরই।