News update
  • Journalism Plays Critical Role in Disaster Response: UN     |     
  • Iran Launches Fresh Ballistic Missile Attack On UAE     |     
  • Only tourist police box on Kuakata beach about to disappear into sea     |     
  • High Court Rejects Plea to Suspend Presidential Poll     |     
  • PM calls for broader tax net, people-friendly revenue system     |     

কলকাতায় নিজের বাড়িতে পড়ে গিয়ে আহত মমতা ব্যানার্জী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2024-03-15, 8:13am

66b05c60-e227-11ee-8bf3-195418ba9285-2c4a64b77b639e33cc5b87169480d7ce1710468825.jpg




পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বৃহস্পতিবার রাতে নিজের বাড়িতেই পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তার দল তৃণমূল কংগ্রেস টুইট করে এ খবর জানিয়েছে। মিজ. ব্যানার্জীকে রাজ্যের সবথেকে বড় সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাতে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বাড়িতে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তার ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জী জানিয়েছেন, মমতা ব্যানার্জীর কপালে চারটে সেলাই পড়েছে।

কোনও ইন্টার্নাল হেমারেজ হয়েছে কী না, সেটা জানতে এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছে তার।

মিজ. ব্যানার্জীর পরিবারের সূত্রগুলি জানাচ্ছে তিনি বাড়িতে নিজের ঘরেই পড়ে যান বৃহস্পতিবার রাতে। ঘরের একটি আলমারিতে তার মাথা ঠুকে যায়।

কপাল থেকে রক্ত ঝরার কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।

প্রথমে তাকে এসএসকেএম হাসপাতালের ভিআইপি ওয়ার্ড উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ আগে হুইলচেয়ারে বসিয়ে মিজ. ব্যানার্জীকে ওই হাসপাতালের অংশ বাঙ্গুর ইন্সটিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেই সময়ে দেখা যায় যে মুখ্যমন্ত্রীর কপালে ব্যান্ডেজ রয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তার জ্ঞান আছে এবং রক্তপাত বন্ধ হয়েছে বলেও পরিবারের সূত্রগুলি জানিয়েছে।

হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জী-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

মমতা ব্যানার্জীর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে জড়ো হয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, মন্ত্রী, সমর্থকরা ছাড়াও হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও।

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল বিরোধী অনেক দল আর তার রাজনৈতিক ভাবে ঘনিষ্ঠ জাতীয় স্তরের অনেক নেতা নেত্রীই মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়ার খবরে সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

বারে বারেই আঘাত পান মুখ্যমন্ত্রী

মমতা ব্যানার্জী যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন, সেই সময় থেকেই তার ওপরে একাধিকবার শারীরিক আক্রমণ হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক কালেও অনেকবার তিনি দুর্ঘটনায় চোট-আঘাত পেয়েছেন।

জানুয়ারি মাসে বর্ধমান থেকে গাড়িতে কলকাতায় ফেরার সময় অন্য একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে তার কনভয়ে ঢুকে পড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির চালক জোরে ব্রেক কষতে বাধ্য হন। তখনও মাথায় চোট পেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী।

প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমরা যখন ফিরছিলাম, তখন উল্টোদিক থেকে একটি গাড়ি এসে প্রায় আমার গাড়িতে ধাক্কা মারছিল।"

"আমার গাড়ির চালক যদি ব্রেক না কষতেন তাহলে হয়তো আমি বাঁচতামই না। হঠাৎ ব্রেক কষার ফলে আমার মাথাটা গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ঠুকে যায়। তবে মানুষের আশীর্বাদে আমি নিরাপদে আছি।"

এর আগে, গত বছর স্পেন সফর থেকে ফিরে তাকে দিন দশেক এই এসএসকেএম হাসপাতালেই থাকতে হয়েছিল। বিদেশ সফরে তিনি বাঁ পায়ে চোট পেয়েছিলেন।

ওই একই পায়ে গত বছর জুলাই মাসেও তিনি চোট পেয়েছিলেন একবার।

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে খারাপ আবহাওয়ার কারণে তার হেলিকপ্টারটি একটি সেনা ছাউনিতে নামাতে হয়।

হেলিকপ্টার থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে তিনি বাঁ পায়ে ব্যথা পেয়েছিলেন।

গত নির্বাচনের আগেও পায়ে চোট

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিগত নির্বাচনের আগে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী।

সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারই এক সময়ের অনুগত দলীয় কর্মী শুভেন্দু অধিকারী।

ওই নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মমতা ব্যানার্জীর পায়ে চোট লেগেছিল।

গোটা নির্বাচন প্রচার পর্ব এবং ভোটের দিনও তিনি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধেই ঘুরেছিলেন।

তার পায়ের সেই চোট নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। মমতা ব্যানার্জীর চোট আদৌ কতটা গুরুতর, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা।

কখনও রাজ্য সচিবালয় মহাকরণে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ঘরের সামনে থেকে পুলিশ তার চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে বার করে নিয়ে গিয়েছিল।

তবে মমতা ব্যানার্জীর নিজের পাড়ায় একটি মিছিল করার সময়ে সিপিএমের কর্মীদের লাঠি-ডাণ্ডা পড়েছিল তার মাথায়।

সেই সময়ে সিপিএম কর্মী ছিলেন, এমন একজন, লালু আলম তার মাথায় সরাসরি আঘাত করেছিলেন বলেই মমতা ব্যানার্জী নিজেই অভিযোগ করেছিলেন।

সেটা ১৯৯০ সালের ঘটনা। তখন মিজ ব্যানার্জী কংগ্রেস নেত্রী ছিলেন।

ঘটনার ২৯ বছর পরে ২০১৯ সালে ওই মামলায় বেকসুর খালাস পেয়ে গেছেন অভিযুক্ত লালু আলম। তথ্য বিবিসি বাংলা।