
অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস।
এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, এই ‘ব্ল্যাকআউট’ দেশব্যাপী বিক্ষোভকে লক্ষ্য করে নেয়া ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ এবং এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জনগণের যোগাযোগের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে’।
তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান সরকার।
গেল বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন এ বিক্ষোভের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থা এএফপির হিসাবে জানা গেছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
তবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি অনেক বেসরকারি সংস্থার।
এদিকে, এই ব্ল্যাকআউটের আগে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন দেশটির নির্বাসিত ও স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা পাহলভি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছে যে শাসকগোষ্ঠী (ইরানের) অনেক ভীত হয়ে পড়েছে এবং আবারও ইন্টারনেট বন্ধ করার চেষ্টা করছে।’ খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।
তিনি আরও বলেন, তবে জেনে রাখুন, আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না; সেটি ইরানের লাখ লাখ স্টারলিংক ডিভাইসের মাধ্যমে হোক, কিংবা ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও মানোটো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
আল জাজিরা বলছে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের অবস্থান ‘পরস্পরবিরোধী’। কারণ দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ দমনে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, দাঙ্গাকারীদের ‘তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া উচিত’।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ-সংক্রান্ত হতাহতের সংখ্যা আর বাড়তে না দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশ এবং অধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব’।
তিনি আরও বলেন, সব মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার এবং নিজেদের দাবি প্রকাশ করার সুযোগ থাকতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা, ইরান ইন্টারন্যাশনাল