News update
  • Tarique Rahman Formally Named BNP Chairman     |     
  • 136 new drugs in 195 essential drugs list, pricing guidelines     |     
  • BSF halts overnight road building near border as BGB intervenes     |     
  • U.S. Pullout From Global Bodies Sparks Widespread Alarm     |     

এলপিজিতে নৈরাজ্য: সরকারের ব্যর্থতা, নাকি ব্যবসায়ীদের কারসাজি?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীবাশ্ম 2026-01-09, 8:24am

rewrewtewtret-fbc498405d6de7efbb87dcb84979e0031767925481.jpg

সরবরাহ সংকটের কারণে সাড়ে ১২০০ টাকার একটি গ্যাস সিলিন্ডার ২৪০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। ফাইল ছবি



দাম বাড়িয়েও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ সরকার। ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে যোগসাজশ থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। আর ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী সুবিধা দেয়া হলে আগামী মাসেই বাজার স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

সরবরাহ সংকটের কারণে সাড়ে ১২০০ টাকার একটি গ্যাস সিলিন্ডার ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যেই গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আরও ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে নতুন করে নির্ধারিত দাম হয় ১ হাজার ৩০৬ টাকা।

তবে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এর দায় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, এই অস্বাভাবিক দাম একটি কারসাজির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে দাম বাড়ার চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এলপি গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখে। তাদের দাবি, নতুন করে দাম সমন্বয় করতে হবে।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী দাম বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। পরে তার আহ্বানে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন ব্যবসায়ীরা। বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, যারা ইন অ্যাকটিভ কোম্পানি আছে তাদের আগামী সপ্তাহে আলোচনায় ডাকা হবে। চলমান সংকট সমাধানে বিইআরসি চেষ্টা করে যাবে।

বাজারে এমন পরিস্থিতির কারণ জানতে চাইলে ডিলাররা তীব্র সরবরাহ সংকটের কথা জানান। তারা বলেন, কোম্পানি থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়াই তাদের কাজ। কিন্তু বর্তমানে ৩০টির মধ্যে প্রায় ২৫টি কোম্পানির কাছেই গ্যাস নেই। ফলে এসব কোম্পানির গ্রাহকরা কোথায় যাবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াবের দাবি, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করে, তাহলে আগামী মাসেই সংকট কাটতে পারে। লোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, এখন খুব বড় ধরনের সমস্যা দেখছি না। তবে প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো যদি দেয়া হয়, তাহলে জানুয়ারি মাসে আমদানি করা গ্যাস ফেব্রুয়ারিতে এসে পৌঁছাবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি সহজ হবে। নীতিগত সহায়তা না পেলে এই সংকটের দায় ব্যবসায়ীরা নিতে পারবে না।

বাজারে চলমান অরাজকতার জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজশকেই দায়ী করছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম। তার মতে, বছরের পর বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সরকার নিজেই দায়ী এবং ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিচ্ছে।

এদিকে এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।