
প্রথমবারের মতো বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির আবেদন চলছে। শর্তসাপেক্ষে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন শিক্ষকরা। তবে আবেদন করতে গিয়ে সফটওয়্যার জটিলতায় নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর বলছে, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু হয়েছে গত ২১ আগস্ট। চলতি সপ্তাহজুড়ে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত পূরণ করলেই শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। চাকরির আবেদনে দেয়া নিজ জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
এ ছাড়া আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থলের জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পূর্ণ হলে আবেদনের যোগ্য হবেন শিক্ষকরা। বদলি হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি বদলির আবেদন করতে পারবেন না।
বদলি প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে হওয়ায় এতে স্বচ্ছতা থাকবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘এখানে ম্যানুয়াল কোনো সিস্টেম থাকবে না। এখানে কারও কাউকে ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে না। কারও ইচ্ছামতো ম্যানুয়ালি বদলি করার সুযোগ না থাকার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকবে। প্রাপ্যতা ভিত্তিতে সেভাবেই একটি বাটন ক্লিকের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে বদলি হয়ে যাবে।’
বদলি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে সফটওয়্যার নিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন তারা। বিশেষ করে সমপদ ও সমস্কেলে বদলির ক্ষেত্রে জটিলতার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখন চাইলে জনস্বার্থে একটা পয়েন্ট আমাদের বদলিতে আছে। যদি কোনো শিক্ষক কোনো জায়গায় নির্যাতনের শিকার হন, সেই জায়গা থেকে ফোকাস করে সংশ্লিষ্ট অধিদফতর ওই শিক্ষককে জনস্বার্থে অন্য কোনো জায়গায় বদলি করে নিরাপত্তা দিতে পারবে।’
এদিকে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলা দেয়া থাকলেও সেখানে বদলির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ থাকলেও সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে তা খালি দেখাচ্ছে না।
বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. সারোয়ার বলেন, ‘পাসওয়ার্ড, আইডি-এসব নিয়ে জটিলতা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও ইনভ্যালিড পাসওয়ার্ড আসছে। এটা তো শিক্ষকদের ভুল নয়। ভুল হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।’
সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি। এবারই প্রথমবারের মতো বদলির সুযোগ পাচ্ছেন তারা। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রথা সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এর সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করা প্রয়োজন।