News update
  • Bidisha Siddique Arrested in Fraud Case     |     
  • As wars spread, the global food system unravels     |     
  • Holy Eid-e-Miladunnabi Wednesday     |     
  • EU sees Bangladesh as partner of growing strategic importance: Miller     |     
  • Journalism’s main task is to question power: Swapon     |     

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-08-05, 10:52am

afp_20250123_1162195326_v4_highres_presidenttrumphostsmadeinamericaproductshowc-219d9cbe84b1e996e74cf0d2a90603ae1785905550.jpg




ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার থাড ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যয় হয়েছে।

সূত্রগুলোর মতে, পেন্টাগনের গোলাবারুদের মজুত এখন বিপজ্জনকভাবে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট। খবর সিএনএনের।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় দুই হাজার ২০০টি আধুনিক প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

বর্তমান ব্যবহারের হার বিবেচনায় বিশ্লেষকদের ধারণা, থাডের যুদ্ধ-পূর্ব মজুত পুনর্গঠনে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

মার্কিন মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তাদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

এসব দেশের অনেকেই মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

সূত্রগুলোর দাবি, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চূড়ান্ত অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে হামলা স্থগিত করেন।

মিত্র দেশগুলো সতর্ক করে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে ইরান তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

যদিও হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেই পরিকল্পনা আবারও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।

তবে সংকটের খবর অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রেসিডেন্টের সব কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার এইটিএসিএমএস, প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।

বর্তমানে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রায় অর্ধেক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পেন্টাগন ইতোমধ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে নতুন চুক্তি করেছে।

বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১৫টি টমাহক এবং ২০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।