News update
  • Bangladesh sees 31 risky heat days, 25 for CC, this summer     |     
  • ECNEC Approves Three Metro Rail Projects Worth Tk2.5tn     |     
  • Rising violence triggers UNSC emergency meeting on Yemen     |     
  • Gaza remains recovery points to possible war crimes: Volker Turk     |     

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা 

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2026-06-07, 1:14pm

tyeertreterw-3f4ab68d7e318ce4ff26df4c5c1e16101780816477.jpg




রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণায় বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, আসামি সোহেল রানা সব অপরাধ স্বীকার করেছে এবং হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামী সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছে।

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয় এবং যথাযথ শাস্তি না দিলে আদালত ব্যর্থ হবে।

রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে ২৪ মে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

বিচারকের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন করা হয়। একই দিন মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

পরদিন ২ জুন মাত্র এক কার্যদিবসেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। এ সময় রামিসার বাবা, মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে ওপর আসামি স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

পরে ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

আইনজীবীদের মতে, রামিসা হত্যা মামলার মতো অন্যান্য ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, প্রতিটি মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের মামলার জন্য আলাদা বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা থাকা প্রয়োজন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। পরে রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান।

দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান। পরে বাথরুমের একটি বড় বালতির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তার মাথা।

জাতীয় জরুরি সেবায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে সোহেল রানা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।