News update
  • Dhaka’s air quality moderate on Sunday morning     |     
  • Special prayer held at DU on 45th death anniv of Ziaur Rahman     |     
  • 55-year-old dies in Chuadanga as fibrous mango bit blocks throat     |     
  • Dhaka's air quality ‘moderate’ during Eid holiday     |     
  • Thousands of tourists flock to Kuakata during Eid festival     |     

পর্যটকে উৎসবমুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক পর্যটন 2025-08-29, 7:40pm

2ff3488c2a391ad5d2fe0a8a6e4578b7f31e4ab0fbded622-21c62a5700770b5c5eb27992d745b9371756474857.jpg




সাপ্তাহিক ছুটির দিন, আর তার সঙ্গে মনোরম আবহাওয়া- এই সুযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারও পর্যটক ভিড় করেছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। কখনও রোদ, কখনও মেঘলা আকাশের মাঝে উপচে পড়া ভিড় জমেছে সৈকতের বালিয়াড়িতে। সমুদ্রস্নান, ঘোড়ার পিঠে চড়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো- সব মিলিয়ে সাগরপাড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের সাগরতীরে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। ছোট-বড়, তরুণ-প্রবীণ-সব বয়সী মানুষ মেতে উঠেছেন আনন্দে। কেউ ঝাঁপ দিচ্ছেন সাগরের নোনাজলে, কেউবা শুধুই হাঁটছেন জলরেখার ধারে।

আকাশে কখনও রোদ, কখনও মেঘ; আবহাওয়ার এই রূপ পাল্টানো আমেজে বাড়তি আনন্দ পেয়েছেন পর্যটকরা। সৈকতের বালিয়াড়িতে চলছে বাচ্চাদের খেলাধুলা আর ঘোড়ার পিঠে চড়ে উপভোগ করছেন অনেক পর্যটক। কক্সবাজার সৈকতে যেন বসেছে এক মিলনমেলা।

ফরিদপুর থেকে ভ্রমণে আসা ফারিয়া নুসরাত বলেন, ‘প্রকৃতিকে স্পর্শ করতে হলে সমুদ্রসৈকতে বার বার ফিরে আসতে হবে। সমুদ্র দেখলেই আলাদা একটা শান্তি লাগে। সেজন্য বার বার সমুদ্রের কাছে ছুটে আসা হয়। সমুদ্র তো সমুদ্রই, সমুদ্রের সঙ্গে অন্যকিছুর তুলনা হয় না। এই জন্য সমুদ্র অনেক বেশি ভাল লাগে।’

পর্যটক মোহাম্মদ সফি উল্যাহ বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ; এই যে সৌন্দর্য কোথাও পাওয়া যাবে না। সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মূল বাতাস ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বর্গীয় সুখের মতো। সাগরকে ঠিক এভাবেই উপভোগ করি।’

আরেক পর্যটক রিয়াজ হায়দার বলেন, ‘অনেকদিন পর পরিবার নিয়ে এসেছি, আবহাওয়াটা দারুণ। রোদ-মেঘ মিলিয়ে আবহাওয়া একদম অন্যরকম। খুব ভাল সময় পার করছি সাগরতীরে।’

বর্ষা মৌসুমে পর্যটক কম থাকলেও এখন আবহাওয়ার উন্নতিতে আবারও ফিরছে সেই চিরচেনা গতি। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে পর্যটকের ভিড় আরও বাড়বে।

সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বার্মিজ পণ্যের দোকানি হুমায়ুন কাদের বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে কিছু পর্যটক কমেছিল। তবে বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার পর্যটকের আগমন ছিল বেশি। যেহেতু বৃষ্টি কমেছে, আশা করি সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের আগমন বাড়বে।’

বিগত কয়েকদিন ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও, শুক্রবার সকালে তা প্রত্যাহার করে আবহাওয়া অফিস। তবে উত্তাল সমুদ্রের কারণে এখনো সৈকতে লাল পতাকা উড়িয়ে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লাইফ গার্ড সদস্যরা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছি। ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গোসল করার পরামর্শ দিচ্ছি। সাগরের ঢেউ উত্তাল থাকায় এখনও লাল পতাকা উড়িয়ে সমুদ্রস্নানে সতর্ক করা হচ্ছে পর্যটকদের। তবে অনেকে মানছেন, আবার অনেকেই মানছেন না। তারপরও সৈকতে সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীরা সজাগ রয়েছে।’

দিন শেষে সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ে, তখনও কক্সবাজারের সৈকতে রয়ে যায় আনন্দের রেশ। ভ্রমণ প্রেমীরা ফিরছেন সুখস্মৃতি নিয়ে, আর অপেক্ষা শুরু হচ্ছে পরবর্তী ছুটির। সাগরের টানে কক্সবাজারের পথে পথে যেমন বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা, তেমনি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সবার সচেতনতাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।