আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোমবার তালিবানকে বেসরকারী সংস্থাগুলোতে নারী কর্মী নিয়োগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল রেস্কিউ কমিটিসহ অন্তত চারটি বিদেশি এনজিও আফগানিস্তানে তাদের পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
এনআরসি প্রধান নিল টার্নার এই নিষেধাজ্ঞাকে তালিবানের একটি “জঘন্য” পদক্ষেপ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া তার ভিডিও মন্তব্যে টার্নার এনজিওগুলো ইসলামি পোশাক সংক্রান্ত বিষয়ে সম্মত ছিল না- তালিবানের এমন দাবির বিরোধিতা করেন।
কেয়ার আফগানিস্তানের উপ-পরিচালক রেশমা আজমি ইমেইলের মাধ্যমে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, তার সংস্থার ৯০০ জন কর্মীর মধ্যে ৩৮ শতাংশ নারী। তিনি বলেন, সহায়তা গোষ্ঠীটি ইতোমধ্যে ৭ লাখ আফগানকে সাহায্য করেছে, যার মধ্যে ৫ লাখের বেশি নারী।
যুক্তরাষ্ট্র তালিবানের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, এটি আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং জীবন রক্ষাকারী সহায়তা সরবরাহকে ব্যাহত করবে।
তালিবান গোষ্ঠীর প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এনজিও-সম্পর্কিত নির্দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এটিকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
২০২১ সালের আগস্টে তালিবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর থেকে তারা জনসাধারণের জীবন এবং শিক্ষাক্ষেত্র থেকে নারীদের বাদ দিয়েছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানের তালিবান অধিগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সৈন্য প্রত্যাহারের পর দেশটি অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে। ফলে ইতোমধ্যেই বিরাজ করা উদ্বেগজনক ক্ষুধা সংকটের আরও অবনতি ঘটে এবং আরও লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়ে। তথ্য সূত্র ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা।