News update
  • Power generation at Payra Thermal Power Plant 1st unit starts after a month     |     
  • Irregularities, injustice will no longer be accepted in politics: Jamaat Ameer     |     
  • 2 arrested in Jhenaidah for allegedly selling madrasa student     |     
  • Koko’s wife campaigns for Tarique in Dhaka-17     |     
  • Bangladeshi Expats Cast 4.58 Lakh Postal Votes     |     

তারেক প্রধানমন্ত্রী হলে দেশে কেউ বেকার বা ক্ষুধার্ত থাকবে না: আব্দুস সালাম

রাজনীতি 2026-01-31, 7:35pm

img-20260131-wa0021-74be2e13184a875744eb20f21f795f8a1769867366.jpg

Valiant freedom fighter Abdus Salam on Sunday addresssing retired armed forces men at the Bhasantek BNP election office.



 বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন তারেক রহমান নির্বাচিত হলে দেশে বেকারত্ব থাকবে না, দারিদ্র দূর হবে এবং মানুষ না খেয়ে থাকবে না। এবারের নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনারা নির্বাচনে ভুল করেন তাহলে দেশ অনেক দূর পিছিয়ে যাবে। 

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন সেনাদলের উদ্যোগে ভাষানটেক বিএনপি অফিসে রোববারএক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ঢাকা ১৭ এর নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঢাকা ১৭ এর যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।

আব্দুস সালাম বলেন, এদেশকে করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি করদ রাজ্য বানানোর জন্য? মোটেই না। এখন আপনারা ঠিক করবেন দেশ পরাধীন করবেন না স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক হবে এদেশ কারা পরিচালনা করবে। 

যারা অপপ্রচার চালায় নির্বাচন হবে কিনা তারা দেশের ভালো চায় না। আর যারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তারা কিছুদিন আগেও আওয়ামী সরকারের সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছে। গোপনে তাদের সহযোগিতা করেছে। 

একটা গোষ্ঠী সেই জামাতকে বিএনপি'র প্রতিদ্বন্দ্বী বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ বিগত দিনে তাদের অবস্থান বিএনপির ধারেকাছেও ছিল না। তারা কোনদিন ঢাকায় একটা আসনেও জয়লাভ করেনি। বিএনপির সাথে যতদিন যুক্ত ছিল ততদিন তারা ২০ টির কাছাকাছি আসন পেয়েছে। যখন বিএনপি থেকে সরে গিয়ে নির্বাচন করেছে তখন মাত্র দুইটি আসন পেয়েছে। এমন দলের সাথে বিএনপির কি কোন তুলনা হতে পারে? কখনোই তুলনা চলে না। 

তিনি বলেন বিগত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা কত রকম নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয় জীবন শেষ করে দিয়েছে কিন্তু তারা কখনো আপোষ করেনি। যেমন আপস করেননি বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদের নেতা তারেক রহমানও আপস করবেন না। 

তিনি বলেন ডাকসুতে যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা কিছুদিন আগেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। অথচ ৫ই অগাস্টের পরে বলছে তারা ছাত্রশিবিরের কর্মী। এবার যদি বিএনপি নির্বাচিত হয় তাহলে এই ছেলেরাই এসে তারেক রহমানের কাছে বলবে আমরা ভুল করেছি। আমাদের মাফ করে দিন। মনে রাখবেন এরা নিজেদের রক্ষার জন্য সব কিছুই করতে পারে।  

আব্দুস সালাম বলেন জিয়াউর রহমান ক্যু করে ক্ষমতায় আসেননি। সিপাহী জনতা একত্রিত হয়ে তাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কারণ তার প্রতি আগে থেকেই সৈনিকদের আস্থা ছিল। সেই আস্থা এখনো আছে। সেই আস্থার ওপর ভর করেই তাদের প্রিয় সন্তান তারেক রহমানকে দেশ চালানোর দায়িত্ব তুলে দিবেন। 

তিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন যারা স্বাধীনতা চায়নি বরং হাত পেতে বেঁচে থাকতে চেয়েছে তারা আসলে দেশকে ভালোবাসে না। তাদের সাথে থেকে বিগত দিনে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তার জন্য বিএনপিকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। রাজাকার তকমা সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও ৫ আগস্টের পর এমন কি হলো যে তারা বিএনপির বিপক্ষে চলে যায় এবং বিএনপি'র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। 

তারা দেশ শাসনের সুযোগ চায়। আমার ধারণা দেশ শাসনের সুযোগ পেলে তারা ইহুদিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে। 

তিনি উপস্থিত বিএনপি নেতা কর্মীর উদ্দেশ্যে বলেন আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চাই। আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন। উঠান বৈঠক করবেন।অফিসে বসে বক্তব্য রাখার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়াটা বেশি দরকার। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে তাদের এক একটি ভোটের অনেক মূল্য এবং তারা যেন ধানের শীষে ভোট দেয়।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা কখনো রাজাকারদের সমর্থন করতে পারে না। কারণ সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। যারা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বড় হয় তারা কি রাজাকারদের পক্ষ নিতে পারে? সবাই উত্তরে বলেন, না পারে না। 

বিএনপি কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করার দল নয়। জিয়াউর রহমান করেননি, বেগম খালেদা জিয়া করেননি। আমাদের নেতা তারেক রহমানও করবেন না। 

বিগত দিনগুলোতে বারবার আমাদের বলা হয়েছে জামাত ছেড়ে আসুন। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা তাদের কথায় সাড়া দেইনি। কারণ আমরা বেঈমানি পছন্দ করি না। অথচ তারা সামান্য সুযোগ পেয়েই আমাদের বিপক্ষে চলে গেছে।

তিনি বলেন আমরা মনে করি সংকট এখনো কাটেনি। এখনো সীমান্তের ওপারে বসে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী বক্তব্য রাখছে। স্বৈরাচার রাজাকার যদি হাত মিলিয়ে ফেলে তাহলে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। 

দেশকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমানের মত খাঁটি ও দূরদর্শী নেতা দরকার। সেই নেতা হতে পারেন সময়ের কান্ডারী তারেক রহমান। জনগণ তার পক্ষ নিয়েছে। আপনারা দেখেছেন তিনি যেদিন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন সেদিন এক কোটিরও বেশি লোক ঢাকার রাস্তায় ছিল। তাদের সবাই কি বিএনপি করে? মোটেই না। তাদের বেশিরভাগ সাধারণ জনগণ। এরপর দেখেছেন তিনি যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করতে যাচ্ছেন সেখানেও মানুষের কি রকম উপচেপড়া উচ্ছ্বাস।

তারা ইসলামের কথা বলে। অথচ ভোটের জন্য মানুষকে টাকা ঘুষ দেয়। কাজটা কি ইসলাম সম্মত? 

বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার হচ্ছে। এসব করে বিএনপির কিছুই করা যাবে না। বিএনপির ভিতর থেকে যারা বেরিয়ে গেছে তারা বিএনপির ক্ষতি করতে পারেনি বরং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি জনগণের দল। জনগণ যতদিন আছে বিএনপি ততদিন থাকবে। বিএনপি'র প্রতি সকলের দরদ এবং ভালোবাসাও থাকবে। বিএনপির শিকড় অনেক গভীরে। জনগণের অন্তরে তাদের আসল স্থান। এখান থেকে কখনো বিএনপিকে উপড়ে ফেলা যাবে না। 

জিয়াউর রহমান গাছ রোপন করেছেন। খালেদা জিয়া তাতে পানি ঢেলেছেন। এখন তারেক রহমান সেই গাছে ফল ধরানোর ব্যবস্থা করবেন। 

একটা রাষ্ট্র চালাতে অনেক পরিকল্পনা দরকার। অনেক কার্যক্রম এবং লোকবল দরকার। বিএনপি'র সেই লোকবল এবং জনসমর্থন আছে।

খেয়াল করলে দেখবেন আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে নিজেদের জন্য, যেমনটা করে জামাত। আর বিএনপি রাজনীতি করে জনগণের জন্য। এজন্য আন্দোলনে লিগ পালিয়ে যায়। বিএনপি কখনো পালায় না। 

তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত দিনে আপনারা অনেক কষ্ট করেছেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন। যা হারিয়েছেন সবই পেয়ে যাবেন। কেউ ব্যবসা হারিয়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। বিএনপি যথাসময়ে এসব পাওনা বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু কখনো সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। সাধারণ মানুষ কষ্ট পায় এমন কোন কাজ বা কথাও বলা যাবে না। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন সকাল সকাল আপনারা ভোট কেন্দ্রে চলে যাবেন। যখন এলাকায় ভোট বাক্স পৌঁছবে, তখনই ভোট বাক্সের উপর নজর রাখবেন। কঠিন পাহারা দিবেন যাতে কেউ জোচ্চুরি করতে না পারে। ভোর হওয়ার আগেই পুনরায় ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। ভোট গণনার পর ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র আগলে রাখবেন। মনে রাখবেন আপনার হিসেব আপনাকেই বুঝে নিতে হবে। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল জগলুল আহসান, ভাষানটেক থানা বিএনপির আহবায়ক কাদের মাহমুদ, সদস্য সচিব রেজানুর সেলিম, যুগ্ম আহবায়ক আমির হোসেন, শাহরিয়ার লিটন, ৯৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন। 

সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারেন্ট অফিসার মতিউর রহমান, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান সারজেক্ট মোঃ আব্দুল বাতেন, সার্জেন্ট আব্দুল হক, কর্পোলার জমশেদ, ওয়ারেন্ট অফিসার রফিকুল ইসলাম, ওয়ারেন্ট অফিসার রওশন আলী, সৈনিক দুলাল হোসেন, যুবদল নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম মিরাজ ও সার্জেন্ট ইমামুল হক প্রমুখ। 

সভা শেষে বিএনপি নেতা কর্মীগণ বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে গণসংযোগে বেরিয়ে যান। - বিএনপি মিডিয়া কমিটি