News update
  • No more “Aynaghar”, perpetrators to face justice: President Fakhrul     |     
  • Battery-powered rickshaws to be banned on Dhaka’s main roads     |     
  • Malaysia to Recruit 200,000 Bangladeshi Workers by End-Sept     |     
  • Lionel Messi scores 4 goals, helps Inter Miami to 7-1 win over Montreal     |     
  • China sends tunnel experts for rescue operations in Nepal     |     

পর্যটনের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীববৈচিত্র 2026-08-30, 10:59pm

img_20260830_225927-8788e85f2a948a06dc5764d71d4b91861788109199.jpg




তিন মাসের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন মৌসুমে জুন, জুলাই ও আগস্ট; এই তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রেখেছিল বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার খবরে স্বস্তি ফিরেছে বনজীবী ও পর্যটন-নির্ভর মানুষের মধ্যে।

এতদিন ধরে মানুষের আনাগোনা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এই সময়ে বনের প্রাণ-প্রকৃতিতে ফিরেছে এক অনন্য সজীবতা। বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ আর নদী-খালে মাছের প্রাচুর্যে এখন মুখরিত পুরো সুন্দরবন। পাশাপাশি ঘন ও সুবিন্যস্ত হয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, বাইন ও ছইলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ।

বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বন্য ও জলজ প্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ ও সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। এরই মধ্যে তিন মাসের অবরোধের সুফল দৃশ্যমান হয়েছে বলে দাবি করছে বন বিভাগ।

অবরোধ চলাকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক দেখা মিলেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। কখনো খালের পাড়ে, আবার কখনো বনের ভেতরে বাঘের উপস্থিতি নজরে এসেছে। পর্যটকদের মন কেড়েছে কুমিরের শিকার ধরার দৃশ্য। বনের নানা প্রান্তে হরিণের পাল, বানর, লাল কাঁকড়া ও বন্য শূকরের অবাধ বিচরণও দেখা যাচ্ছে।

বন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন মাস মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীরা পেয়েছে নির্ভয়ে চলাচলের সুযোগ। একই সময়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজননও হয়েছে নির্বিঘ্নে। ফলে বনের খালগুলোতে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ভিদের ঘনত্বও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে অবরোধ চলাকালে বন অপরাধের আশঙ্কা থাকায় বন বিভাগকে জোরদার করতে হয়েছে টহল। জোয়ার-ভাটার সময় হিসাব করে ২৪ ঘণ্টাই সুন্দরবনে পাহারা দিয়েছেন বনকর্মীরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে স্মার্ট পেট্রোলিং।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, অবরোধ বাস্তবায়নে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টহল জোরদার করা হয়েছিল। এ সময়ে বন অপরাধ কমেছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। হরিণের পালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণও বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি খালের পাড়ে বাঘের উপস্থিতিও পাওয়া যাচ্ছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে মাসে সাত দিন স্মার্ট পেট্রোলিং করা হলেও তিন মাসের অবরোধ চলাকালে তা বাড়িয়ে ২০ দিন করা হয়। এতে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছে বন বিভাগ।

এদিকে অবরোধ শেষ হওয়ায় সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছেন উপকূলের জেলেরা। নৌকা ও জাল মেরামত, প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহসহ সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। দীর্ঘ তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার খাল ও নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।

মৌয়াল জীবন কর্মকার বলেন, তিন মাস বনে যেতে না পারায় আমাদের মতো মৌয়ালদের অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয়েছে। সুন্দরবনই আমাদের জীবিকার বড় ভরসা। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার বনে যেতে পারব, মধু সংগ্রহ করতে পারব—এতে আমরা খুবই আশাবাদী। তবে বন ভালো থাকলেই আমরা ভালো থাকব। তাই নিয়ম মেনে মধু সংগ্রহ করব এবং বনের কোনো ক্ষতি হয় এমন কাজ করব না।

শরণখোলার জেলে আলাল মোড়ল বলেন, তিন মাস বনে যেতে পারিনি। নৌকা-জাল মেরামত করে রেখেছি। এতদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার বনে গেলে ভালো মাছ পাব—এমন আশা করছি। মাছ ভালো পাওয়া গেলে আমাদের মতো বনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর কষ্ট কিছুটা কমবে।

শুধু জেলে নয়, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মৌয়ালরাও অপেক্ষায় রয়েছেন বনে ফেরার। শরণখোলার মৌয়াল জীবন কর্মকার বলেন, তিন মাস বনে যেতে না পারায় আমাদের মতো বনজীবী মানুষের সংসারে টানাপোড়েন গেছে। সুন্দরবনই আমাদের জীবিকার প্রধান ভরসা। নিষেধাজ্ঞার কারণে বনে যেতে না পারলেও আমরা চাই সুন্দরবন ভালো থাকুক। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে, তাই আবার বনে গিয়ে মধু ও অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে জীবিকা চালাতে পারব—এটাই আশা। তবে বন থেকে সম্পদ নিতে গিয়ে যেন বনের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানুষের প্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ রাখা জরুরি। এতে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন হওয়ার পাশাপাশি মাছের প্রজননও নিশ্চিত হয়।

পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় টহলও বাড়ানো হয়। এবারও অবরোধের সুফল হিসেবে বনে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও খালে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে রয়েছে ১৪টি পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর এসব পর্যটনকেন্দ্রে কয়েক লাখ পর্যটক ভ্রমণে আসেন। পাশাপাশি বন বিভাগের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধলাখ বনজীবী সুন্দরবন থেকে মাছ, গোলপাতা ও মধু আহরণ করেন।

সুন্দরবনের বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে আসছে বন বিভাগ। এবারের তিন মাসের অবরোধ শেষে বনের প্রাণ-প্রকৃতিতে যে সজীবতা ফিরেছে, তা ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।