News update
  • Crackdown on extortionists, criminals to be intensified : Home Minister     |     
  • Trump says top tech firms have signed accord to 'self-police' AI dev     |     
  • France Student Protests Spread Nationwide, Over 400 Detained     |     
  • State Minister Amit urges global firms to join BD offshore bidding     |     

কুয়াকাটায় ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখল

অপরাধ 2026-09-07, 11:16pm

shops-in-kalapara-forcibly-ocupied-on-monday-7-september-2026-bb6e73169d40d785c253dc67f8b08c511788801365.jpg

Shops in Kalapara forcibly ocupied on Monday 7 September 2026



পটুয়াখালী: কুয়াকাটায় ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দখল নেওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোতে শুঁটকি, আচারসহ পর্যটকদেরয়্স প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হতো। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপি'র সভাপতি আজিজ মুসুল্লি ও তাঁর ছেলে রিয়াজ মুসুল্লির নেতৃত্বে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি নুরে আলম শেখ, পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মিয়া, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক  রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ প্রায় দেড় থেকে দুই 'শ ব্যক্তি এ দখল প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মারধর করার পাশাপাশি মালামাল লুটপাটেরও অভিযোগ ওঠে।

ব্যবসায়ীরা জানান, তারা স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকান গুলো ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই ব্যক্তিরা দোকান গুলো দখলের পায়তারা করে তালা দিয়েছিলেন। পরে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় প্রশাসন জমির কাগজপত্র দেখে বেল্লাল মোল্লাকে মালিক হিসেবে গণ্য করেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা দোকান দখল নিতে গেলে তাঁদের মধ্যে কেউ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনি সহায়তা চান। পরে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেলেও ব্যবসায়ীদের কোন উপকারে আসেননি । পরে পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানিদের মারধর করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ অন্যরা।

শুঁটকির দোকানি রুবেল মৃধার অভিযোগ,২০১৮ সাল থেকে তিনি স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে স্টল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। রবিবার দুপুরে তারা দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে ব্যবসায়ীদের চলে যেতে বলেন। এ সময় প্রতিবাদ করলে দখলে অংশ তাদের মারধর করে দোকান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়।

আচার ব্যবসায়ী মো. মহিবুল্লাহ বলেন, স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে ২০১৮ সালে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। 

৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা স্বীকার করে মহিপুর থানার পুলিশ  উপ-পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু তারা লিখিত অভিযোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।’

 মার্কেটের জমির মালিক দাবি করা বেল্লাল মোল্লার অভিযোগ,‘উল্লেখিত জমি নিয়ে পটুয়াখালীর একটি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে একই ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সব দোকান দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে দোকান গুলো মুক্ত করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সেনাক্যাম্প, উপজেলা ভূমি অফিস ও মহিপুর থানা-পুলিশের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হলে তাঁরা উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল থাকার পরামর্শ দেন। অথচ এসব সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর জমিতে থাকা ২০টি দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে দোকান গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি'র সভাপতি আজিজ মুসুল্লির মুঠোফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও 

উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, ‘জমিটি লুজ খতিয়ানের হওয়ায় বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।’ - গোফরান পলাশ