News update
  • Bangladesh Begins 18,000-Foot Gas Drilling in Brahmanbaria     |     
  • Trump Pauses Hormuz Escort Mission Amid Deal Hopes     |     
  • India's Interlinking of Rivers: An idea delinked from realities     |     
  • Explosion at China fireworks factory kills 26 people     |     
  • ‘US military adventurism’ responsible for new attacks on UAE     |     

‘এমপি আজীমের নগ্ন ছবি তুলে প্রথমে ব্ল্যাকমেইল করতে চেয়েছিল হত্যাকারীরা’

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2024-05-26, 10:04am

fdsys-6ca3776d1eb221bd8d0aef9314e5e1ac1716696264.jpg




বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের মরদেহের অংশ খুঁজতে দ্বিতীয় দিনের মতো কলকাতার একটি খালে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-সিআইডি। সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর হত্যাকাণ্ড ও মরদেহকে খণ্ড খণ্ড করে গুম করার বর্ণনা দিয়েছে জিহাদ হাওলাদার।

তার ওই তথ্যের সূত্র ধরে শনিবারও উত্তর-পূর্ব কলকাতার বিধাননগরের একটি খালে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনায় পেশায় কসাই জিহাদ হাওলাদার যে তথ্য দিয়েছে, সে অনুযায়ী মরদেহকে টুকরো টুকরো করা হয়েছিল। পরে সেগুলোকে ফেলা হয়েছিলো বেশ কিছু জায়গায়। সেই সব স্থানের একটি বিধাননগরের খালটি।

পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট শুক্রবার বিধাননগরের ওই বাগজোলা খালে তল্লাশি অভিযান চালালেও তেমন কিছু পায় নি। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই খালেই অভিযান চলে।

তবে এদিন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সাথে যোগ দেন স্থানীয় জেলেরা। জেলেদের জাল দিয়ে খোঁজা হয় এমপি আজীমের মরদেহের অংশ।

তবে, ঠিক কী কারণে এমপি আজীমকে হত্যা করা হল তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোন তথ্য এখনো পায় নি বাংলাদেশ কিংবা ভারতের গোয়েন্দারা।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া বাংলাদেশ থেকে আটক হওয়া শিমুল ভূঁইয়া পুলিশকে জানিয়েছে, মি. আজীমকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে 'হানি ট্রাপে' ফেলে এক নারীর সাথে নগ্ন ছবি তুলতে চেয়েছিল হত্যাকারীরা। এরপর সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল। তবে, তার জ্ঞান না ফেরায় সফল হয় নি এই গ্রুপটি।

শনিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ব্যবসায়িক লেনদেনসহ আধিপত্য বিস্তার বা অনেক কিছুই থাকতে পারে হত্যাকাণ্ডের পেছনে। তবে, তাদের একটা উদ্দেশ্য ছিল ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করা যায় কী না”।

এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ভারতে আটককৃতদের সাথে কথা বলতে শিগগিরই কলকাতায় যাওয়ার কথাও জানান ডিবি প্রধান।

হাড় মাংস আলাদা করে প্যাকেটে ভরে গুম

তদন্তকারীরা জিহাদ হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, কলকাতা সংলগ্ন নিউ টাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেন্সে মি. আজীমকে হত্যা করে। পরে সেখানেই তার শরীর থেকে চামড়া আলাদা করে ফেলে পেশায় কসাই এই জিহাদ হাওলাদার।

পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন যে, হত্যার পরই মাংস ও হাড় আলাদা করা হয় এবং মাংস ছোট ছোট টুকরো করে কাটা হয়।

এরপরই সেগুলি অনেকগুলি প্যাকেটে ভরে হত্যাকারীরা বের হয় সঞ্জীভা গার্ডেন্সের চার নম্বর গেট দিয়ে।

ওই গেটের ডানদিকে একটি আর বাঁদিকে আরেকটি রাস্তা গেছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন জিহাদ ধরে ডানদিকের রাস্তাটি।

কিছুটা পথ গেলেই সামনে একটা মোড়। তারপর ঘুরতে হয় ডান দিকে। এরপরই সোজাসুজি একটি রাস্তা পড়বে।

রাত বাড়লেই এই পথে পুলিশের চেকিং চলে। সিআইডির দেয়া তথ্য বলছে, তাই সেপথে যাওয়ার ঝুঁকি নেয় নি জিহাদ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি বলছে, যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত তারা অনেক পরিকল্পনা করেই কাজটি করেছে। সেই সাথে মরদেহ গুম করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বোকা বানাতে তারা অনেক পরিকল্পনা করেছিল।

দুপুরে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, ''হত্যার পর তারা এমপি আজীমের মোবাইলগুলো নিয়ে কখনো বেনাপোলের কাছে যায়, কখনো মোজাফফারাবাদ যায়। বেনাপোলে গিয়ে মি. আজীমের প্রতিপক্ষ গ্রুপের কাছেও কল দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে তারা”।

তিনি জানান, ভারতীয় পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। তবে সেটি তদন্তের স্বার্থে এখনই জানাবে না পুলিশ।

জিরেনগাছি এলাকা দিয়ে সবসময়েই চলছে গাড়ি আর মানুষজনের চলাফেরা

পথ চিনতে দুই মাস আগেই বাসা ভাড়া নেয় জিহাদ

পুলিশের দেয়া তথ্য বলছে, ভাড়াটে হত্যাকারী হিসেবে আগেই যোগাযোগ করা হয় জিহাদের সাথে। এরপর তাকে ভারতের মুম্বাই থেকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়।

তদন্তকারীরা বলছেন যে, আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার আগে জিহাদ প্রায় মাস দুয়েক নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকেছিল।

এই দুই মাসে সে এলাকায় ঘুরে ঘুরে তথ্য যোগাড় করে। কোন কোন পথে পুলিশ থাকে, কোন জায়গা কখন জনমানবহীন হয়ে যায় সে সব তথ্য আগে থেকেই রেকি করতে থাকে সে।

সব কিছু সম্পর্কে ধারণা নিয়েই যে পথ দিয়ে মরদেহের অংশ নিয়ে যাওয়া হয়, শুক্রবার সেই পথে জিহাদকে নিয়ে গিয়েছিলো পশ্চিমবঙ্গের সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা।

শনিবার সেই পথ ধরে এগিয়ে বিবিসি সংবাদদাতা দেখতে রাস্তার সামনে এগিয়ে গেলেই হাতের বাঁদিকে চকচকে নিউ টাউনের বিশাল অফিস আর আবাসিক ভবন। মাঝখানে ছিল বেশ কয়েকটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা।

নিউ টাউনের সীমানার শেষে হাতিশালার মোড় হয়ে সামনেই জিরেনগাছি এলাকা।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমবার জিহাদকে নিয়ে সিআইডির তদন্তকারীরা জিরেনগাছির আর কৃষ্ণমাটি সেতুর মাঝামাঝি জায়গায় প্রথমবার এসেছিলেন।

জিহাদ সিআইডিকে তথ্য দিয়েছিলো, এই জায়গাতেই সে মি. আজীমের দেহাংশগুলি বাগজোলা খালে ফেলে দিয়েছিল। তবে রাতের অন্ধকারে তদন্তকারীদের সে নিশ্চিত করে বলতে পারে নি ঠিক কোথায় ফেলা হয়েছিল মি. আজীমের মরদেহের অংশগুলি।

জাল ফেলে চলছে তল্লাশি অভিযান

গতকাল শুক্রবার জিহাদকে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হয়। সেখান থেকে ১২ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে পেয়ে সরাসরি তাকে আবারও নিয়ে আসা হয় জিরেনগাছি এলাকার ওই খালের পাশে।

আগে থেকেই সেখানে প্রস্তুত ছিল ডুবুরির দল আর নৌকা। সিআইডির কর্মকর্তারা জিহাদকে বারবার জিজ্ঞাসা করতে থাকেন যে ঠিক কোন জায়গায় সে দেহাংশগুলি ফেলে গিয়েছিল।

তদন্তকারী আর জিহাদের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বিবিসি শুনতে পায় যে, সে কর্মকর্তাদের বার বার বলছে যে একটা বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে নীচে নেমেছিল।

বেশ কয়েকটা জায়গায় বাঁশঝাড় আছে খালের এই অংশে। শেষমেশ একটি জায়গায় নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করে জিহাদ। শুক্রবার সেখানেই প্রথম ডুবুরি আর নৌকা নামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও কিছু উদ্ধার করা যায় নি। পরে শনিবারও বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা একই জায়গায় গিয়ে দেখতে পায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে উদ্ধার অভিযান।

যে রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাগজোলা খালটি তার পাশ দিয়েই সাইকেল, মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস সবই চলছে রাস্তা দিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সারাদিন তো বটেই, অনেক রাত পর্যন্ত এই রাস্তায় গাড়ি আর মানুষের চলাচল থাকে।

এরকম একটা জনবহুল রাস্তার পাশেই জিহাদ মি. আজীমের দেহ ফেলার ঝুঁকি নিল?

জিরেনগাছির বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন তরফদার বলছিলেন, “এই রাস্তায় রাত ১১টা-সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মানুষ আর গাড়ি চলে। যদি এখানে কাউকে কিছু ফেলতে হয় তাহলে কারও না কারও চোখে পড়বেই।

যে বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে সে নেমেছিল বলে চিহ্নিত করে দিয়েছিল জিহাদ, সেখানে ডুবুরিরা দ্বিতীয় দিনের মতো খালে নেমেছেন। নামানো হয়েছে নৌকাও।

শুক্রবারের সঙ্গে শনিবারের তল্লাশির ফারাক ছিল দুটো – এক, জিহাদকে শনিবার আর ঘটনাস্থলে আনা হয় নি, দ্বিতীয়ত, তদন্তকারী দলের নৌকায় চেপেছিলেন একজন জেলে।

তিনিই খালের জলে মাছ ধরার জাল ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিলেন। তবে আগের দিনের মতোই সেই জালে শুধুই উঠে আসছিল আবর্জনা।

সিআইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, “এত সহজে হাল ছাড়তে রাজি নই আমরা। তাই তল্লাশি চলবেই।“

নগ্ন ছবি তুলে ব্লাকমেইল করতে চেয়েছিলে হত্যাকারীরা

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার ঘটনায় রিমান্ডে আসা আসামিরা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, এমপি আজীমকে ক্লোরোফর্ম বা চেতনানাশক দিয়ে নারীর সাথে নগ্ন ছবি তুলে ব্লাকমেইল করার একটা উদ্দেশ্য ছিল হত্যাকারীদের।

আটককৃতদের দেয়া তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ফ্ল্যাটে নেওয়ার পর ক্লোরোফর্ম দিয়ে এমপিকে অচেতন করে। অচেতন অবস্থায় এ ঘটনায় গ্রেফতার তরুণী সিলিস্তা রহমানের সঙ্গে এমপির নগ্ন ছবি তোলার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে ক্লোরোফর্মের মাত্রা বেশি হওয়ায় এতে সফল হয়নি তারা।

ডিবি বলছে, যে পরিকল্পনা ছিল সে অনুযায়ী প্রথমে তাকে হত্যা না করে হানি ট্রাপে ফেলার কথা ছিল। এর মাধ্যমে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করার করার উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেই কৌশল কাজে লাগেনি।

মি. রশিদ বলেন, হানি ট্রাপের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল টাকা আদায়। তবে, হত্যা করা ছিল মূল উদ্দেশ্য। হত্যা তারা করতোই। তার কাছ থেকে টাকা আদায় করেই খুনীদের পারিশ্রমিক দেয়ার চিন্তা ছিল মাস্টারমাইন্ড শাহিনের।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, দুই দেশেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বক্তব্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ ও আরও তথ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ থেকে ডিবি প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম আগামীকালের মধ্যে কলকাতায় যাবে।

ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, দেশে ভারতীয় পুলিশের একটি টিম দুই থেকে তিন দিন ধরে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। আমরা বেশ কিছু তথ্য নিয়ে কাজ করছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন জানানো যাবে না”। বিবিসি নিউজ