
পৌষ মাসের হাড়কাঁপানো শীতে যেখানে চারিদিকের মানুষ গরম কফি বা হালকা কুসুম গরম পানিতে চুমুক দিচ্ছেন, সেখানে আপনার মন চাইছে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি? অনেকেরই অভিজ্ঞতা এমন যে, শীতে তেষ্টা মেটাতে হালকা গরম পানি খেলেও ঠিক ‘তৃপ্তি’ আসে না। বরং সাধারণ তাপমাত্রার বা কিছুটা ঠান্ডা পানি খেলে তবেই যেন প্রাণ জুড়ায়। এই শীতের মৌসুমে অনেকের মনেই প্রশ্ন— এটি কি নিছকই মনের ভুল, নাকি এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আছে?
শীতেও কেন ঠান্ডা পানি বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে হয়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
আমাদের শরীরের তৃষ্ণা মেটানোর প্রক্রিয়াটি কেবল পানি খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং মুখ এবং গলার কিছু স্নায়বিক সংকেতের ওপরও নির্ভর করে। এর পেছনে মূলত ৩টি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. মুখের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পানি পান করলে আমাদের মুখের ভেতর এবং গলার টিস্যুগুলো দ্রুত শীতল হয়। এই শীতলতা মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ অংশে (যা তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণ করে) সংকেত পাঠায় যে তৃষ্ণা মিটেছে। হালকা কুসুম গরম পানির ক্ষেত্রে এই শীতল অনুভূতিটি হয় না, তাই পানি খাওয়ার পরেও মনে হয় তৃষ্ণা মেটেনি।
২. শীতে ঘরের ভেতরের শুষ্কতা
শীতকালে আমরা সাধারণত বদ্ধ ঘরে থাকি অথবা হিটার ব্যবহার করি। এতে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে আমাদের নাক ও মুখের ভেতরটা শুকিয়ে যায়। এই শুষ্ক ভাব দূর করতে ঠান্ডা পানি যতটা কার্যকরভাবে মিউকাস মেমব্রেনকে উদ্দীপিত করে, গরম পানি তা পারে না।
৩. মেটাবলিজম ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
শীতকালে শরীর নিজের তাপমাত্রা বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণভাবে বেশি কাজ করে। একে বলা হয় ‘থার্মোরেগুলেশন’। অনেক সময় শরীর ভেতর থেকে গরম অনুভব করলে ঠান্ডা পানি পানে দ্রুত স্বস্তি মেলে। একে অনেকটা রিফ্রেশিং ড্রিঙ্কের মতো মনে হয়।
গরম পানি বনাম ঠান্ডা পানি: কোনটি বেছে নেবেন?
যদিও ঠান্ডা পানি তৃপ্তি দেয়, তবে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যায় শীতকালে কিছু সতর্কতা জরুরি—
গরম পানির উপকারিতা: শীতকালে হালকা গরম পানি পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এটি সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমায়।
ঠান্ডা পানির ঝুঁকি: ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে টনসিলের সমস্যা বা গলার সংক্রমণ হতে পারে। তবে সাধারণ তাপমাত্রার (ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা) পানি খেলে তেমন ক্ষতি নেই।
তৃপ্তি পেতে কী করবেন?
আপনি যদি গরম পানি খেয়ে তৃপ্তি না পান, তবে হালকা কুসুম গরম পানির পরিবর্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি খান। পানি খাওয়ার আগে মুখে কিছুক্ষণ পানি নিয়ে কুলি করার মতো করে রাখুন, এতে তৃষ্ণা দ্রুত মিটবে। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস