
বিহারের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন এলাকা রাজগীরে নালান্দা ওপেন ইউনিভার্সিটি ও সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের (SJF) যৌথ উদ্যোগ অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স।
৪ ও ৫ ই জানুয়ারি নালান্দা ওপেন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক কনফারেন্স হলে দুই দিনব্যাপী ‘International Conference on International Mother Language & International Award-2026’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক কে. সি. সিনহা , মরিশাসের বিশিষ্ট লেখিকা ও সংস্কৃতি কর্মী ড. সরিতা বুদ্ধু ।সিকিমের প্রাক্তন রাজ্যপাল মাননীয় শ্রী গঙ্গা প্রসাদ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট রাজু লামা সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ আব্দুর রহমান।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুটান, থাইল্যান্ড সহ আমেরিকা মারিশাস থেকে প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন, থেকে প্রায় দুই শতাধিক প্রথিতযশা সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন: "সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার: একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ" বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে শ্রীলঙ্কার রাহুল সমন্থা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।
দ্বিতীয় অধিবেশন: "নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত গুরুত্ব" বিষয়ে প্রখ্যাত লেখক অধ্যাপক পরিচয় দাস ও অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
তৃতীয় অধিবেশন: "বিহারের সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা" বিষয়ে পাটনা ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক কে. সি. সিনহা আলোচনা করেন।
আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে মূলত বিশ্বের দরবারে মাতৃভাষার গুরুত্ব, মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্রের চর্চা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।।
এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম বিহার চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড.শশীভূষণ কুমার,ও অনুষ্ঠানের বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন ‘নিউজ মানবাধিকার মিডিয়া হাউজ’।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, স্থিতিশীলতা রক্ষা, মাতৃভাষার গুরুত্ব ,মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়বস্তু নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক (SAARC) বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা বৃদ্ধির জন্য কনফারেন্সে আলোচনা করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সমস্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি অনেকাংশেই থমকে যায়।
আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে সাংবাদিকদের আলোচনায় উঠে আসে, দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করার কথা।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ৫২-র ভাষা আন্দোলন এখন আর কেবল একটি দেশের ইতিহাস নয় এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রতীক। কনফারেন্সে এটি তুলে ধরার অর্থ হলো—নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষার লড়াই যে কোনো জাতির মৌলিক অধিকার, তা বিশ্বমঞ্চে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ভূমিকা বর্তমানে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসে ।সাংবাদিকরা যেন প্রতিকূল পরিবেশেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বজায় রাখে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দূর করা মানবাধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমকে 'চতুর্থ স্তম্ভ' হিসেবে শক্তিশালী করা দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সার্কভুক্ত দেশের শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ কালচারাল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করা হয়:
লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড ২০২৫: ড. সরিতা বুদ্ধু, পদ্মশ্রী ড. জে. কে. সিং, ড. ব্রজনন্দন কুমার সিনহা এবং ড. সুস্মিতা পাণ্ডেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
নালন্দা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড:
বাংলাদেশের চার সাংবাদিক সহ ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
বিহার গৌরব অ্যাওয়ার্ড: ৫১ জন ব্যক্তিকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয় যার মধ্যে 'গোল্ড ম্যান অফ ইন্ডিয়া' প্রেম সিং অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করেন।
আন্তর্জাতিক এ গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, মুস্তাক আহমেদ মোবারকী: সম্পাদক, দৈনিক বঙ্গবাণী এবং সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস),মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: সম্পাদক, দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি,কাজী হাবিব উল্লাহ: চিফ রিপোর্টার, দ্য মর্নিং নিউজ।