
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি সদস্যকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ। আজ শনিবার (২৭ জুন) রাতে রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় ইতালির রাষ্ট্রীয় পুলিশ ‘পোলিজিয়া দি স্তাতো’ তাদের অফিসিয়াল পেজে এই ওয়ান্টেড নোটিশ প্রকাশ করে।
ইতালীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশির নাম শাহাদাত হোসেন। তার জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ মে, বাংলাদেশে। ৪৩ বছর বয়সী এই অভিযুক্তের সন্ধান কিংবা কোনো দরকারি তথ্য জানা থাকলে তা অবিলম্বে রোম পুলিশের মোবাইল স্কোয়াডের বিশেষ নম্বর 3346903295-এ জানানোর জন্য বিশ্বব্যাপী অনুরোধ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন—কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আরোয়া ইসলাম আরিশা। এই হামলায় তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়নও গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের স্থায়ী বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। সপরিবারে রোমে বসবাসকারী এই বাংলাদেশির এমন নির্মম পরিণতিতে ইতালি প্রবাসী ও দেশের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোমে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের দেশের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক বছর আগে আসা একটি রহস্যময় উড়ো চিঠির প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে এসেছে। স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই রাতে বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলামের বাড়ির প্রধান ফটকে ‘লাল বাহিনী’ নামে কথিত একটি স্থানীয় ডাকাত দলের উড়ো চিঠি পাওয়া গিয়েছিল। অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ ওই চিঠিতে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয়।
চিঠিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের দাবি পূরণ করা না হলে সিরাজুল ইসলামের ছেলে (ইতালিতে নিহত বাবুল) ও নাতিকে হত্যা করা হবে এবং পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হবে।
এই বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম আজ শনিবার জানান, সে সময় ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাদের অবহিত করেছিল। আমরা আমাদের জায়গা থেকে নিয়মিত ওই পরিবারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু তার মধ্যেই আজ ইতালিতে সপরিবারে তিনজনকে হত্যার এই মর্মান্তিক বিষয়টি জানতে পারলাম। ইতালীয় পুলিশ ও বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসন এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।