
দখলকৃত পশ্চিম তীরের বড় অংশকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার। ১৯৬৭ সালে অঞ্চলটি দখলের পর প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
সরকারি সূত্র জানায়, প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
স্মোটরিচ বলেন, আমরা আমাদের সব জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। খবর আল জাজিরার।
বিশ্লেষকদের মতে, জমি নিবন্ধনের মাধ্যমে স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি জমি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। ১৯৬৭ সালে দখলের পর ইসরায়েল এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলকারী কোনো রাষ্ট্র দখলকৃত অঞ্চলের জমি দখল বা সেখানে বসতি স্থাপন করতে পারে না।
ফিলিস্তিনের তীব্র নিন্দা
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর উত্তেজনা সৃষ্টি’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, এটি বিদ্যমান চুক্তিগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ দখলদার শক্তির সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এই উদ্যোগ দখলকৃত ভূমিতে বসতি স্থাপন এবং ভূখণ্ডের চরিত্র পরিবর্তনের প্রচেষ্টা।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
জর্ডান সরকার এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
একইভাবে কাতার বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার হরণের অবৈধ পরিকল্পনার অংশ
মিসর জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন, বিশেষ করে ২০১৬ সালের জাতিসংঘ প্রস্তাবের বিরোধী।
‘বাস্তবিক সংযোজন’ বলছেন বিশ্লেষকরা
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযোজন করার সমতুল্য। এতে বসতি সম্প্রসারণে দীর্ঘদিনের আইনি বাধা দূর হয়ে যাবে।
পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাভিয়ার আবু ঈদ বলেন, এই উদ্যোগ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংযোজনের পথ তৈরি করছে।
জাভিয়ার আবু ঈদ জানান, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালের রায়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দখলের শামিল হিসেবে উল্লেখ করেছিল।