News update
  • Venezuela earthquakes kill 920, tens of thousands missing     |     
  • Search Continues After Venezuela Quakes Kill 235     |     
  • Dhaka, Beijing sign 13 MoUs to deepen cooperation across key areas     |     
  • China Eyes Teesta Project, Trade Boost With Bangladesh     |     
  • PM Tarique, Li Qiang Hold Bilateral Talks in Beijing     |     

অর্থনীতিতে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : জামায়াত আমির

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রাজনীতি 2025-11-30, 8:53am

jaamaayyaat_aamir-7152b77aedd55705e975036569064d9a1764471230.jpg




বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নীতিনিষ্ঠ, স্বচ্ছ ও ন্যায্য অর্থনৈতিক কাঠামো ছাড়া একটি দেশ এগোতে পারে না।

 ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’-শীর্ষক এক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক বণিক বার্তা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

জামায়াত আমির দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার মতো পরিকল্পনা রাষ্ট্র কখনোই সঠিকভাবে নিতে পারেনি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু শিক্ষা থেকে বাদ পড়ে। এই শিশুদের মধ্যেই হয়তো ভবিষ্যতের কোনো বড় অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বা দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক লুকিয়ে আছে। কিন্তু তারা ড্রপআউট হয়ে জীবনের শুরুতেই হারিয়ে যায়। এদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল সমাজ এবং সরকারের, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।

উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের নানা বাধা, দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, একজন উদ্যোক্তা যখন কোনো জমি কিনতে যান, তখন একের পর এক জটিলতা তাকে ঘিরে ফেলে। যা এক মাসে শেষ হওয়ার কথা, তা বহু ক্ষেত্রে এক বছরেও শেষ হয় না। এই অবস্থায় কোনো শিল্পোদ্যোক্তা পাঁচ বছরে সফল হওয়ার কথা থাকলে দেখা যায় তা ১০ বছরে গড়ায়। এর ফলে ব্যাংক ঋণ অব্যবস্থাপনায় পড়ে নন-পরফর্মিং হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা দেখিয়ে বাংলাদেশে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

মেধাবী ব্যক্তিদের ক্রমাগত বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক দক্ষ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসতে চান না। কারণ তারা মনে করেন বাংলাদেশ তাদের সম্মান বা সুযোগ দেয় না। সম্মানের জায়গা তৈরি হলে তারাও দেশকে দিতে প্রস্তুত। আমরা শুধু আর্থিক রেমিট্যান্স নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্সও চাই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক শিল্পপতি নিরাপত্তার কারণে তাদের সন্তানদের বিদেশে পাঠাতে বাধ্য হন। একজন বাবা হিসেবে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে তিনি কি দোষ করছেন? সমাজ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বলেই তারা দেশ ছাড়ছেন।

একটি স্থিতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়তে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজ টিকিয়ে রাখতে হলে অন্তত তিনটি ক্ষেত্রকে ঠিক করতে হবে- শিক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং সবার জন্য বিচার নিশ্চিত করা।

তার ভাষায়, ‘সার্টিফিকেট নয়, প্রয়োজন স্কিল ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা। দুর্নীতি দমনে শুধু ডালপালা নয়, মূল শিকড় কেটে ফেলতে হবে এবং সর্বস্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো ছাড়া সমাজ এগোতে পারবে না। 

তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য অর্থনৈতিক পতন বা নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় কোনোটিই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক আন্তরিকতাই সংস্কারের মূল চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারও বক্তব্য দেন।